ইতিকাফকালে রাসুল (সা.) মসজিদে তাঁবু বানানোর জন্য নির্দেশ দিতেন

ইতিকাফকালে রাসুল (সা.) মসজিদে তাঁবু বানানোর জন্য নির্দেশ দিতেন। তাঁর জন্য মসজিদে তাঁবু স্থাপন করা হতো। তিনি তাতেই অবস্থান করতেন এবং লোকজন থেকে আড়াল হয়ে নিজ প্রভুর প্রতি নিবিষ্ট হতেন। যাতে করে বাস্তবিক অর্থেই তাঁর জন্য পূর্ণ নির্জনতা অর্জিত হয়

নবী করিম (সা.) এর ইতিকাফ ছিল অধিক পরিপূর্ণ ও সহজ। একবার নবী (সা.) শবেকদর তালাশের উদ্দেশ্যে রমজানের প্রথম ১০ দিন ইতিকাফ করলেন অতঃপর দ্বিতীয় ১০ দিনও করলেন। এরপর তার কাছে পরিষ্কার হলো যে, লাইলাতুল কদর শেষ ১০ দিনে নিহিত। তারপর আমৃত্যু তিনি শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করেছেন। একবার কোনো কারণে শেষ ১০ দিনের ইতিকাফ ছুটে যায়; কিন্তু তা পরবর্তী সময়ে শাওয়ালের প্রথম দশকে কাজা আদায় করেন। (বোখারি ও মুসলিম)।

যে বছর রাসুল (সা.) দুনিয়া থেকে বিদায় নেন সেবার বিশদিন ইতিকাফ করেন। এর কারণ হিসেবে বলা হয় যে, নবী করিম (সা.) যখন জানতে পারলেন যে, তাঁর মৃত্যুর সময় হয়ে গেছে, তিনি আমল বৃদ্ধি করতে চাইলেন। যাতে করে তার উম্মত বুঝতে পারে, জীবনসায়াহ্নে সর্বাধিক আমল করতে হবে, তারা আল্লাহর সঙ্গে উত্তম অবস্থায় সাক্ষাৎ করতে পারে।

আবার কেউ বলেন, ‘জিবরিল (আ.) প্রতি রমজানে রাসুল (সা.) এর সঙ্গে একবার কোরআন পাঠ করতেন; কিন্তু ইন্তেকালের বছর দুবার করেছেন। এর অনুসরণে তিনি দুই দশক ইতেকাফ করেন।

এর চেয়েও বলিষ্ঠ মত হলো, তিনি ২০ দিন ইতিকাফ করেছেন। কারণ এর আগের রমজানে তিনি সফরে ছিলেন। ফলে ইতিকাফ করতে পারেননি। তাই তার পরিবর্তে এ রমজানে দুই দশক ইতিকাফ করেছেন। ইমাম নাসায়ী ও আবু দাউদ উবাই বিন কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘নবী করিম (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু একবার তিনি সফরে ছিলেন তখন ইতিকাফ করতে পারেননি। তাই পরবর্তী বছর তিনি ২০ দিন ইতিকাফ করেছেন।’ (ফতহুল বারী)।

ইতিকাফকালে রাসুল (সা.) মসজিদে তাঁবু বানানোর জন্য নির্দেশ দিতেন। তাঁর জন্য মসজিদে তাঁবু স্থাপন করা হতো। তিনি তাতেই অবস্থান করতেন এবং লোকজন থেকে আড়াল হয়ে নিজ প্রভুর প্রতি নিবিষ্ট হতেন। যাতে করে বাস্তবিক অর্থেই তাঁর জন্য পূর্ণ নির্জনতা অর্জিত হয়।
তিনি একবার তুর্কি গম্বুজের (একটি ছোট তাঁবু) মধ্যে ইতিকাফ করেছেন, যার দরজায় ছিল একটি মাদুর বা চাটাই। (মুসলিম)।

ইবনে কায়্যিম (রহ.) বলেন, রাসুল (সা.) এসব করেছেন ইতিকাফের উদ্দেশ্যে ও এর রুহানিয়ত হাসিলের জন্য। এটা ওইসব অজ্ঞ লোকদের বিপরীত চিত্র, যারা ইতিকাফের ১০ দিনকে প্রদর্শন ও পরস্পর গল্প-আলাপের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। এটি এক চিত্র আর নবী (সা.) এর ইতিকাফ আরেক চিত্র।

ইতিকাফের দিনগুলোতে রাসুল (সা.) সর্বদা মসজিদেই থাকতেন। শুধু প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ইতিকাফ অবস্থায় নবীজি (সা.) প্রয়োজন ছাড়া কখনও বাড়িতে আসতেন না। (বোখারি ও মুসলিম)।

সহিহ মুসলিমের অন্য এক বর্ণনা অনুযায়ী, মানবিক প্রয়োজন ছাড়া বের হতেন না। ইমাম জুহুরি এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, প্রস্রাব ও পায়খানার জন্যই শুধু বের হতেন। বোখারি ও মুসলিমে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদ থেকে (ইতিকাফ অবস্থায়) তাঁর মাথা বের করে দিতেন আর আমি তাঁর চুল আঁচড়িয়ে দিতাম। আমি তখন ছিলাম ঋতুবতী। বোখারি ও মুসলিমের অপর বর্ণনা মতে, আমি তাঁর মাথা ধুয়ে দিতাম।
আরবি থেকে ভাষান্তরিত

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*