৫৭ বলে ৭৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন। ১৩ চার ও ১ ছক্কায় দলকে এনে দিয়েছেন ৯ উইকেটের সহজ জয়। যোগ্যতম হিসেবেই কাল রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন শিখর ধাওয়ান। তবে ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের নায়ক ছিলেন আরেকজন, ক্রিকইনফো যাঁকে বেছে নিয়েছে তাদের অলস্টার অব দ্য ম্যাচের তালিকায়—সাকিব আল হাসান।

সাকিবকে নিয়ে ক্রিকইনফোর বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আগের মৌসুমগুলোতে হায়দরাবাদের সাফল্যের বেশির ভাগই এনে দিয়েছে তাদের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ। এ বছর জানুয়ারিতে আইপিএলের নিলামে দলের ম্যানেজমেন্ট তাদের বোলিং আক্রমণ আরও বাড়িয়েছে সাকিব আল হাসানের মতো কিছু বুদ্ধিদীপ্ত বোলারকে দলে টেনে। যার আইপিএলে ৪৩ ম্যাচে ৪৫ উইকেট আছে, এই লিগের সেরা ৫ বাঁহাতি স্পিনারের সে একজন। নতুন দলের হয়ে প্রথম দিনেই সাকিব দুর্দান্ত খেলে এই বিশ্বাসটিকে আরও পোক্ত করল।’

৪-০-২৩-২ যেকোনো ধরনের টি-টোয়েন্টিতে ভালো বোলিং। কিন্তু এটা সেভাবে চোখ কাড়ে না। তবু কেন সাকিবকে তারা অলস্টার অব দ্য ম্যাচ বলছে? তারও ব্যাখ্যা দিয়েছে ক্রিকইনফো, ‘সাকিবের এই পারফরম্যান্সের আসল মূল্য শুধু সংখ্যা দিয়ে বোঝা যাবে না। হায়দরাবাদের দারুণ উইকেটে সাকিবকে চতুর্থ ওভারেই আক্রমণে আনা হয়েছে। পাওয়ার প্লের মধ্যে দুই ওভার বল করে মাত্র ১৩ রান দিয়েছেন। রয়্যালস যখন ওভারে আট করে রান তুলছিল, তখন তিনি ৬.১৩ ইকোনমিতে বল করেছেন।’

হায়দরাবাদ তাদের দলে মোহাম্মদ নবীর মতো বোলারকে বসিয়ে রেখেছে। তবু কেন সাকিবকে তাদের বেশি দরকার, সেটিও উঠে এসেছে ক্রিকইনফোর বিশ্লেষণে, ‘সাকিব যখন পরের স্পেলে ফিরলেন, রয়্যালস অবশ্য ততক্ষণে দুই উইকেট হারিয়েছে, রানরেটও পড়ে গেছে সাতে। ফ্লাইট আর স্কিডের মিশ্রণে নিখুঁত ডেলিভারি করে সাকিব রয়্যালসকে এক-দুই রান করে বের করার মধ্যেই আটরে রেখেছিলেন। রয়্যালস এমনিতেই মাঝের ওভারগুলোতে ধোঁকার ইতিহাস আছে। আর ২০১৫ আইপিএল থেকে মাঝের ওভারগুলোতে ৬.৫২-এর স্মার্ট ইকোনমি রেটে বল করা সাকিবও এমন একজন বোলার, এই পর্যায়ে সানরাইজার্সকে যাঁকে সত্যিই দরকার।’

ক্রিকইনফো লিখেছে, ‘সাকিবের সবগুলো ডেলিভারি ছিল রয়্যালসের টপ অর্ডারের অজিঙ্কা রাহানে, সাঞ্জু স্যামসন, রাহুল ত্রিপাঠি এবং জস বাটলারের বিপক্ষে; এঁদের দুজনের আইপিএল স্ট্রাইক রেট ১৪৪-এর ওপরে। কিন্তু সাকিব ওভারে ছয়ের নিচে রান রেখেছিলেন। আর তাঁর শেষ ওভারে সাকিব তো ত্রিপাঠি আর স্যামসন—এই দুজনকে তুলেই নিলেন চার বলের ব্যবধানে। এই জোড়া আক্রমণই রয়্যালসকে পতনের ধাক্কাটা দিল, ৩১ রানের মধ্যে ওরা ৬ উইকেট হারিয়ে মামুলি একটা সংগ্রহ পেল।’

সাকিবের বল সাদা চোখে দেখলে সাদামাটাই মনে হবে। যেমন টার্ন নেই, বাড়তি অস্ত্রও নেই। কিন্তু সাকিব কতটা বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করেন, সেটার প্রমাণ হয়ে থাকল স্যামসনের আউটটি। স্যামসন যে-ই না চড়াও হতে চেয়েছেন, সাকিব একটু বাইরে বলটা ফেললেন। আর সেই টোপটা গিলতে গিয়ে সর্বনাশ হলো স্যামসনের। বলটা বাইরের দিকে যাচ্ছিল। ফলে স্যামসনকে আরও একটু প্রসারিত হাতে খেলতে হয়েছে। তাতেই বল তুলে দিয়েছে আকাশে। অবশ্য রশিদ খানের দুর্দান্ত ক্যাচটারও অবদান আছে এই উইকেটে।

সংখ্যায় সংখ্যায়—
* সব মিলিয়ে সাকিব ৯টি ডট দিয়েছেন, মাত্র দুটি চার হজম করেছেন। বাকি রানগুলো দৌড়ে খেটেখুটে নিতে হয়েছে
* সাকিবের ২৪ ডেলিভারির প্রতিটাই ডানহাতি ব্যাটসম্যানরা খেলেছেন, এর মধ্যে ১৬টি বলে শটে নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁদের
* স্যামসনের মতো বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানকে ১২ বল করে সাকিব মাত্র ১৪ রান হজম করেছেন, আউট করেছেন তাঁকে

Facebook Comments
Share.

About Author

Leave A Reply