নিম্ন আদালত থেকে রায়ের মূল নথি না আসায় দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদার জিয়ার জামিনের বিষয়ে আদেশ হয়নি। আদালত কাল সোমবার দুপুর ২টায় আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীত মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সাজা দেন নিম্ন আদালত। এরপর থেকে খালেদা জিয়া পুরোনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।

আজ রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের বেঞ্চ কাল আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন।

বিএনপির চেয়ারপারসনের অন্যতম আইনজীবী ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দীন খোকন বলেছেন, নথি না আসায় আদালত কাল জামিনের বিষয়ে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এক নজরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা:

দুদকের মামলা: ২০০৮ সালের ৩ জুলাই

অভিযোগপত্র: ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট

অভিযোগ গঠন: ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ

আসামির সংখ্যা: ছয়জন

সাক্ষ্যগ্রহণ: ৩২ জন সাক্ষীর

যুক্তিতর্ক শেষ: ২৫ জানুয়ারি

বিচারের সময়: ২৩৬ কার্যদিবস

যুক্তিতর্ক শুনানি: ১৬ কার্যদিবস

রায় ঘোষণা: ৮ ফেব্রুয়ারি

বিদেশ থেকে পাঠানো এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে পাঠানো ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করার অভিযোগে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক এই মামলা করে। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট ছয়জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দেন দুদকের উপপরিচালক হারুন অর রশীদ।

অন্য আসামিরা হলেন সাবেক সাংসদ ও ব্যবসায়ী কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও জিয়াউর রহমানের বোনের ছেলে মমিনুর রহমান। মামলায় শুরু থেকে পলাতক আছেন কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আদালত খালেদাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৩২ জনের সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন আদালত।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ অন্য আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে অন্যায়ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। সরকারি এতিম তহবিলের আর্থিক দায়িত্ববান বা জিম্মাদার হয়ে বা তহবিল পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে পরস্পর যোগসাজশে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অপরাধ।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলে ইউনাইটেড সৌদি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ১২.৫৫ লাখ মার্কিন ডলার আসে যা বাংলাদেশি টাকায় তৎকালীন ৪ কোটি ৪৪ লাখ ৮১ হাজার ২১৬ টাকা। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ১৯৯১ সালের ৯ জুন থেকে ১৯৯৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই অর্থ দেশের প্রতিষ্ঠিত কোনো এতিমখানায় না দিয়ে অস্তিত্ববিহীন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট গঠন করেন।

অথচ কোনো নীতিমালা তিনি তৈরি করেননি, করেননি কোনো জবাবদিহির ব্যবস্থাও। অথচ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিল থেকে ২ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা অস্তিত্ববিহীন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে পাঠান। পরে ওই টাকা আত্মসাৎ করেন যার জন্য তিনি দায়ী।

তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্রে বলেন, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় থেকে নিজের পদমর্যাদা বলে সরকারি এতিম তহবিলের আর্থিক দায়িত্ববান বা জিম্মাদার হয়ে বা তহবিল পরিচালনার ভারপ্রাপ্ত হয়ে অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে দণ্ডবিধির ৪০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারার অপরাধ করেছেন।

Facebook Comments
Share.

About Author

Leave A Reply